
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সরকার গঠনের দুই মাস না পেরোতেই দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয়করণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সব জায়গায় এখন ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দেশ পরিচালনার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ইতিহাস স্মরণ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, "বর্তমানে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, সচিবালয়ে যেসব কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী আমলে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) ছিলেন, এখন তাঁদের আবার ওএসডি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।"
জামায়াতের এই নেতা বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির ছিল। এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো কোনো সমস্যাই নেই। তাঁদের কাছে মূল সমস্যা যেন বিরোধী দল।"
১৯৯৭ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন ও সরকার গঠনের কথা উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম খান আক্ষেপের সাথে বলেন, "এই নির্বাচনের পরেই আমরা (জামায়াত) হঠাৎ এত খারাপ হয়ে গেলাম!"
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমেই স্বৈরাচারী সরকারের পতন হওয়ার কথা ছিল। সে সময় গুলশানে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের বৈঠকে ব্যাপক পরিকল্পনা হয়েছিল এবং সারা দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় এসেছিল। কিন্তু কর্মসূচির দিন বিএনপি চেয়ারপারসন ও মহাসচিব ছাড়া অন্য সব নেতার ফোন বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, "বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিগত সময়ের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি শেখ হাসিনার কোনো অন্যায় কাজে বাধা দেননি, বরং সহযোগিতা করেছেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন এখনো রাষ্ট্রপতি রাখা হয়েছে, তা বিএনপি ভালো বলতে পারবে।" এ কারণে তিনি রাষ্ট্রপতির ভাষণে ধন্যবাদ জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।