
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জুলাই বিপ্লবকে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সাথে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন, 'ভূগোলের পাঠ থেকে জানা যায়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত একদিনে ঘটে না। লাভা অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়। জুলাই বিপ্লবের সূচনা ১৩-১৪ বছর আগে থেকেই হয়েছে। বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদলের নেতৃত্বে আমাদের নেতা তারেক রহমান ধীরে ধীরে যে আগুন জ্বালিয়েছেন, তা জুলাই মাসে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে।'
মন্ত্রী সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, 'বর্তমানের যারা গণতন্ত্রের অলঙ্কার দাবি করেন, তারা ৭১-এর গৌরবকে ২৪-এর সাথে মিশিয়ে ছোট করতে চান। আমরা সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ঐক্যের আহ্বান করেছেন, তাই আমরা ধৈর্য্য ধারণ করছি। তবে আদর্শের বিপরীতে কোনো সমঝোতা হতে পারে না। আমাদের সমঝোতা কেবল দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই হবে।'
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
২০১৪ সালে পাকিস্তান সফরের একটি কষ্টদায়ক অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, 'সাফমা কনফারেন্সে পাকিস্তানে যাওয়ার সময় একজন পাকিস্তানি এমপি আমার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জানতে পেরে জামায়াতে ইসলামীর এমপির সামনে আমাকে অপমান করেছিল। সেই অপমান আমি আজও ভুলতে পারিনি। যখন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাদের আসল পরিচয় মনে পড়ে—এরা রাজাকার, আলবদর ও আলশামস।'
স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের স্মৃতি মনে করে তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, 'ধানমন্ডি ২ নম্বরের সারা ভবন বা হোয়াইট হাউসে আমরা নির্যাতিত নারীদের দেখেছি। তাদের হাতে দুর্গন্ধ ছিল, এবং চামড়া খসখসে। কারো কোলে সন্তান ছিল, কেউ অন্তঃসত্ত্বা ছিল। সেইসব বিধ্বস্ত চেহারার কথা আমরা ভুলতে পারিনি। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অযথা টানাহেঁচড়া করবেন না।'
বিরোধীদলীয় নেতার সাম্প্রতিক শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'বিরোধীদলীয় নেতা শিশু হাসপাতালে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি নিজেই বলেছেন, রোগীরা ভালো আছেন এবং চিকিৎসা চলছে। কিন্তু সংসদে এসে তারা ভিন্ন কথা বলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তারা কেবল সরকারের সমালোচনা করেন, অথচ অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে কোনো আলোচনা করেন না।'
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।