
সম্প্রতি, স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশনস ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের ৪৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্য হলো, ইবির বায়োকেমিস্ট্রি, জেনেটিক্স এবং মলিকিউলার বায়োলজি ফিল্ডে সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেছে। পাশাপাশি, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ফিল্ডে বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি সিমাগোর ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশিত হয়, যেখানে বিশ্বব্যাপী ১০ হাজার ৮২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।
গত দুই বছরে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থান ধরে রেখেছে।
সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব—এই তিন সূচকে দেশের মধ্যে যথাক্রমে ১৪তম, ৪র্থ ও ১৯তম স্থান অধিকার করেছে। তিনটি সূচকের সমন্বিত ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক অবস্থান চতুর্থ। ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে এই তিন সূচকের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১৬তম, ৫ম ও ১৯তম এবং ২০২৪ সালে ১৬তম, ৪র্থ ও ১৭তম।
সূচক পর্যালোচনায়, দেখা গেছে যে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা র্যাঙ্কিং ২০২৫ সালে ৪৮৮৫তম অবস্থানে ছিল, যা বর্তমানে ৪৫২৪তম এ উন্নীত হয়েছে। সামাজিক র্যাঙ্কিং গত বছরের ১২১০তম থেকে এগিয়ে ৯২৫তম হয়েছে, কিন্তু উদ্ভাবনী খাতে বিশ্ববিদ্যালয়টি কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। সামগ্রিকভাবে গবেষণা, রিসার্চ খাত ও সামাজিক প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
২০২৬ সালের তালিকাভুক্ত র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, বাংলাদেশের সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে—মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বাংলাদেশ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
উল্লেখ্য, সিমাগো ইনস্টিটিউশনস র্যাঙ্কিংস হলো একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পদ্ধতি, যা বিশ্বব্যাপী অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রণীত হয়েছে। স্পেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিমাগো ল্যাব ২০০৯ সাল থেকে এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে আসছে।
এই র্যাঙ্কিং প্রণয়নে, আন্তর্জাতিক তথ্যভান্ডার স্কোপাসের উপাত্ত ব্যবহার করে তিনটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়: গবেষণা (৫০%), উদ্ভাবন (৩০%), এবং সামাজিক প্রভাব (২০%)। গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষণার পরিমাণ, মান ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিবেচনা করা হয়; উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে গবেষণাপত্রের পেটেন্টে উদ্ধৃতি ও উদ্ভাবনী প্রভাব বিশ্লেষিত হয়; এবং সামাজিক প্রভাবের ক্ষেত্রে ওয়েব দৃশ্যমানতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থিতি ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এ অবদান পর্যালোচনা করা হয়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।