
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কবি, কথাসাহিত্যিক ও অসামান্য গল্পস্রষ্টা আল মাহমুদ–এর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে তাঁর জন্ম।
কবির প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। পিতা মীর আবদুর রব এবং মাতা রওশন আরা মীর। তাঁর শৈশব কেটেছে পারিবারিক ইসলামী ঐতিহ্য ও গ্রামীণ পরিবেশে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাগরিক ও সাহিত্য-সাংস্কৃতিক আবহ, বিশেষ করে লালমোহন পাঠাগারকেন্দ্রিক বামচিন্তাধারা ও বৈপ্লবিক চেতনা তাঁর মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে।
১৯৪২ সালে দাদি বেগম হাসিনা বানু মীরের কাছে বর্ণপাঠের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এম.ই. স্কুল, ৬ষ্ঠ জর্জ হাইস্কুল, কুমিল্লার দাউদকান্দির সাধনা হাইস্কুল এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে অধ্যয়ন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা-আন্দোলনের সময় তিনি নিয়াজ মোহাম্মদ হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
১৯৫৪ সালে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকায় প্রুফরিডার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক কাফেলা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দিয়ে প্রুফরিডার, জুনিয়র সাব-এডিটর ও মফস্বল সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইত্তেফাক কার্যালয় ধ্বংস করলে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগে জুনিয়র স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সরকারবিরোধী দৈনিক গণকণ্ঠ-এর সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৭৪ সালে কারাবরণ করেন এবং ১৯৭৫ সালে মুক্তি লাভ করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ পান।
বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে আল মাহমুদ এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। নগরকেন্দ্রিক আধুনিক কবিতার ভেতর তিনি ভাটি বাংলার গ্রামীণ জনজীবন, নদীনির্ভর চরাঞ্চল, লোকঐতিহ্য ও প্রেম-বিরহকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর কবিভাষা লোকজ জীবনঘনিষ্ঠ ও চিত্রময়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, বখতিয়ারের ঘোড়া, প্রহরান্তে পাশফেরা, নদীর ভিতরে নদী, না কোনো শূন্যতা মানি না প্রভৃতি। কথাসাহিত্যেও তিনি রেখেছেন অনন্য স্বাক্ষর।
সাহিত্যচর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাহিত্য সম্মেলন ও গ্রন্থমেলায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অবদান আজও পাঠকসমাজে গভীরভাবে স্মরণীয়।
— রিয়াজুল, কথা২৪
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।