
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | KATHA24
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন,
“সবার মধ্যেই একটা উদ্বেগ কাজ করে—নির্বাচনটা ঠিকঠাকভাবে হবে কিনা। তবে আমি এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ দেখছি, সেটাকে ভালো মনে হচ্ছে। আমরা আশা করছি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। নির্বাচন সঠিক হলে গণতান্ত্রিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।”
গত ১৫ বছরে নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অভিজ্ঞতার কারণে মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদী।
তার ভাষায়,
“এবার চেক অ্যান্ড কাউন্টার ব্যালেন্স এমনভাবে আছে যে তথাকথিত ইঞ্জিনিয়ারিং খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমি মনে করি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব আইন ও নিয়ম অনুযায়ী পালন করবেন।”
জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা বিভিন্ন কৌশলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন,
“সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যু নিয়েও তারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এগুলো মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মাত্র, যা শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের ওপর আস্থা রাখাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।
“মানুষ এতটা বোকা নয় যে সহজে বিভ্রান্ত হবে। তারা ভোটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ঠাকুরগাঁও সফরকে ইতিবাচক উল্লেখ করে ফখরুল বলেন,
“এই সফর ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে একটি নতুন গতি এনেছে। বিএনপির রাজনীতিকে এটি অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে।”
নির্বাচন নিয়ে দলের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫–১৬ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের মূল লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার।
“এই নির্বাচনটি আমাদের জন্য একটি গেটওয়ে। এটি পার হতে পারলে রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক চর্চার পথ সুগম হবে।”
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সবসময়ই নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান করেছে।
“২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা মাত্র ৩০টি আসন পেলেও ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে গিয়েছিলাম। এবারও গণরায়কে সম্মান জানানো হবে।”
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।