
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী বলেছেন, জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনামলে (মার্শাল ল) অনেক লোককে বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয়টি সত্য নয়। আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরার মুখে তিনি এ কথা বলেন।
বেআইনি আটক প্রসঙ্গে: আইনজীবী প্রশ্ন করেন যে, এরশাদের আমলে তিনি অনেককে বেআইনিভাবে বন্দী রেখেছিলেন কি না। জবাবে আযমী বলেন, “এ কথা সত্য নয়।”
শেখ হাসিনা ও অন্যদের বন্দীদশা: ১৯৮৩ সালে হেয়ার রোডের একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা, মতিয়া চৌধুরী ও সাহারা খাতুনকে বন্দী করে আযমীর কোম্পানির অধীনে রাখা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আটক করিনি। কেন তাঁদের আমার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছিল, তা আমি জানতাম না। তখন আমি সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত জুনিয়র অফিসার ছিলাম, সামরিক শাসনে প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল না।”
অপারেশন রেবেল হান্ট: আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অপারেশন রেবেল হান্টের’ সময় তিনি সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় করা এই মামলায় মোট ১৩ জন আসামি রয়েছেন।
| অবস্থা | আসামিদের তালিকা |
| হাজিরা প্রদান (সাব-জেলে আছেন) | মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। |
| পলাতক (হাই প্রোফাইল) | শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী), মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক (প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা)। |
| পলাতক (ডিজিএফআই প্রধানগণ) | লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী এবং মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক। |
উল্লেখ্য যে, আজ ট্রাইব্যুনালে আটক থাকা তিন সাবেক ডিজিএফআই পরিচালককে হাজির করা হয়েছিল। মামলার বাকি ১০ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। গত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান পলাতক আসামিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।