
DESK REPORT| KATHA24
যশোরের কেশবপুরে একটি মারাত্মক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে একটি মেয়ে তার মাকে হত্যা করেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) গভীর রাতে কেশবপুর পৌরসভার সাহাপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে।
নিহত গৌরী রানী (৭৫) ছিলেন ওই এলাকার মৃত কালিপদ অধিকারীর স্ত্রী। আটককৃত দীপ্তি অধিকারী (৫০) হলেন নিহতের মেয়ে, যার শ্বশুরবাড়ি পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার নাগরঘোপ এলাকায় অবস্থিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীপ্তি অধিকারী তিন থেকে চার দিন আগে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে মায়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।
সোমবার রাতে দীপ্তি অধিকারী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেন এবং বাড়ির আঙিনায় ঘুরছিলেন। পরেরদিন মঙ্গলবার সকালে তার দেবর পবিত্র অধিকারী (৫৬) বাড়িতে এসে দোতলায় গৌরী রানীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। একই সময়, পাশের বাথরুমে দীপ্তি অধিকারীকে বসে থাকতে দেখা যায়।
এলাকাবাসীর ধারণা, দীপ্তি অধিকারী সোমবার গভীর রাতে তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার মায়ের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। এই আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই গৌরী রানীর মৃত্যু ঘটে। মরদেহের পাশে বটির একটি ভাঙা অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটির অংশবিশেষও জব্দ করা হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।