
নতুন দায়িত্ব: জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর, আলোচিত রাজনৈতিক নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারকে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটির ঘোষণা: রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পুনর্গঠিত আংশিক কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন:
আহ্বায়ক: ইসহাক সরকারকে স্থান দিতে, বর্তমান আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
সদস্যসচিব: পূর্ববর্তী কমিটির সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ারের পদে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, তিনি বহাল রয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক: পুরান ঢাকার প্রভাবশালী আদেল পরিবারের সদস্য ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক উপদেষ্টা তারেক আহম্মেদ আদেলকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আসাদ বিন রনিকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটির আকার ও গঠন: পূর্ববর্তী কমিটি ১১৯ সদস্যের হলেও, পুনর্গঠিত কমিটিতে সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ৬৫ জন করা হয়েছে। এতে ১৮ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক, ২১ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব, ৪ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৮ জনকে সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ইসহাক সরকার গত শুক্রবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি একসময় ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি তিন শতাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৭ আসন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
আলাউদ্দীন মোহাম্মদের মন্তব্য: সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আলাউদ্দীন মোহাম্মদ এ প্রসঙ্গে বলেন, "ইসহাক সরকারকে জায়গা করে দিতে আমি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়েছি। দলের এই সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট।"
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ ও আন্দোলনমুখী নেতা হিসেবে পরিচিত ইসহাক সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব দেওয়া, এনসিপির রাজধানীতে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।