
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ছাড়িয়ে: বাংলাদেশের একদল উদ্যমী তরুণ ড্রোন ডিজাইন এবং উড্ডয়ন প্রতিযোগিতায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে, যা সত্যিই নজরকাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিজাইন বিল্ড ফ্লাই’ (DBF) প্রতিযোগিতায় ১৭৫টি আন্তর্জাতিক দলের মধ্যে ৩৪তম স্থান অধিকার করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটির (AAU) শিক্ষার্থীদের দল ‘এয়ারবোর্ন ফিনিকস’। এশিয়ার প্রতিযোগীদের মধ্যে তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে।
প্রতিযোগিতার কাঠামো: আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব অ্যারোনটিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনটিকস (AIAA) দ্বারা আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা তিনটি ধাপে বিভক্ত:
প্রস্তাবনা পর্ব (নকশা): যেখানে ড্রোনের গাণিতিক এবং কারিগরি নকশা জমা দিতে হয়।
নির্মাণ পর্ব: উক্ত নকশা অনুযায়ী ড্রোনের নির্মাণ কার্যক্রম।
উড্ডয়ন পর্ব: সঠিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন এবং বিভিন্ন মিশন সম্পাদন করা।
অভূতপূর্ব সাফল্য: এএইউবি দলের নকশা পর্বে বিশ্ব তালিকায় ১২তম অবস্থান লাভ করে। এরপর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর রানওয়ে ব্যবহার করে প্রোটোটাইপ পরীক্ষার সফল সমাপ্তির পর তারা যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত পর্বের জন্য রওনা দেয়।
দলনেতার নেতৃত্বে: অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল আজিজের নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের এই দলটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে ড্রোনের নকশা ও নির্মাণে নিয়োজিত ছিল। তারা ১৬ থেকে ১৯ এপ্রিল কানসাসের উইচিটায় মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।
মিশনের চ্যালেঞ্জ: চূড়ান্ত পর্বে চারটি মিশনের মধ্যে তিনটি সফলভাবে সম্পন্ন হলেও চতুর্থ মিশনে কারিগরি সমস্যার কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। আজিজ জানান, "ব্যানার উড্ডয়নের শেষ মিশনটি সফল হলে, আমরা শীর্ষ ১০-এর মধ্যে থাকতে পারতাম।"
অধ্যাপকের সহায়তা: বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এয়ার কমডোর সাইফুর রহমান এবং উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল এম মোস্তাফিজুর রহমানের অব্যাহত দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলেই এই আন্তর্জাতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
সীমাবদ্ধতার কথা: তবে, সাফল্যের পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা উঠে এসেছে। দলের টেকনিক্যাল রাইটিং প্রধান সামিয়া ইসলাম জানিয়েছেন:
দেশের ল্যাব সুবিধা উন্নত বিশ্বের তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
সরকারিভাবে 'স্টুডেন্ট এক্সচেঞ্জ' প্রোগ্রাম চালু হলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগারে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কথা২৪ মন্তব্য: বাংলাদেশের তরুণদের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সুবিধা পেলে ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। এএইউবি-র এই ‘ফিনিকস’ পাখিরা এখন উন্নত প্রযুক্তির নতুন দিগন্তে ডানা মেলছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।