
**পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে** আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের প্রধান ফটক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলের সভাপতিসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
**প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী,** সকাল থেকেই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস এবং আশপাশে অবস্থান করছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রশিবিরের সদস্যরা বকুল মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে, সেখানে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
**সংঘর্ষের সময়,** কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দেখা গেছে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
ছাত্রদলের দাবি: কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইমরান হোসেন খান অভিযোগ করেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলাম। এসময় ছাত্রশিবিরের এক-দেড়শ কর্মী বহিরাগতদের নিয়ে ককটেল ফাটিয়ে হামলা চালায়। তারা আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে এবং কলেজ ছাত্রদল সভাপতি খালিদ বিন পার্থিবসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করেছে।"
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য: অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজিব হাসান বলেন, "আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির মিছিল যখন গেটের সামনে যায়, তখন ছাত্রদলের কর্মীরা ওপর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। ভাঙচুরের রাজনীতি আমরা করি না; কে বা কারা তাদের অফিস ভেঙেছে তা আমাদের জানা নেই।"
**ঘটনার পর,** এলাকায় অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। ঈশ্বরদীর আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন জানান, যদিও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন, তবে পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কথা২৪.কম/২০২৬
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।