
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান যাতায়াত মাধ্যম শাটল ট্রেনের বগি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই কর্মসূচি আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং শাটল ট্রেনের বর্তমান দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় তারা নানা স্লোগান দেন, যেমন:
“ছাত্র মরে গরমে, ভিসি থাকে আরামে”,
“ছাত্র মরে গরমে, প্রশাসন আরামে”,
“পর্যাপ্ত ফ্যান নাই, প্রশাসনের খবর নাই”,
“পর্যাপ্ত বগি নাই, প্রশাসনের খবর নাই”,
“ঘামে ঘামে জীবন শেষ, ভিসি থাকে আরামে বেশ”,
“শাটলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে”,
“আর কত ভাঙা ট্রেন, যুক্ত কর নতুন ট্রেন”,
“এই মুহূর্তে দরকার শাটলের সংস্কার”,
“এই মুহূর্তে দরকার রেললাইনের সংস্কার”,
“শাটলে ফ্যান নাই, লাইট নাই—প্রশাসনের খবর নাই”।
শিক্ষার্থীরা জানান, শাটল ট্রেনে পর্যাপ্ত বগির অভাব, ফ্যান ও লাইটের অচলাবস্থা, নিরাপত্তাহীনতা এবং নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে তারা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে— ট্রেন সংখ্যা বৃদ্ধি, বিকল্প রুট চালু, কোচ সংখ্যা বৃদ্ধি, নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা, নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, ইলেকট্রনিক সুবিধা নিশ্চিত করা, ট্রেনের গতি বৃদ্ধি, বগির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং ট্রেন ও স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন
তিনি আরও বলেন, “পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছে একাধিকবার সমস্যাগুলো তুলে ধরা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমান উপাচার্যকেও আমরা আমাদের ১১ দফা দাবি জানিয়েছি এবং আগামী রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছি। এর মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত শাটল ট্রেনের সার্বিক সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানান এবং প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।