
শেখ তানভীর হোসেন,। কথা২৪।নড়াইল প্রতিনিধি
দেশের স্থানীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় দরিদ্র জেলেদের মাঝে ৬০টি বকনা গরু বিতরণ কর্মসূচির তথ্য গোপন করেছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। এই ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং অনলাইনে প্রকাশিত খবরের পর উপজেলা প্রশাসন সতর্ক হয়ে ওঠে।
গত (১৩ এপ্রিল) সোমবার বিকেলে, লোহাগড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান ৬০ জন জেলেকে গরু বিতরণের তালিকা সাংবাদিকদের প্রদান করেন। ২০২৫/২৬ অর্থ বছরে প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জেলেদের জন্য ৬০টি বকনা গরু এবং খাবার বিনামূল্যে বিতরণের কথা উল্লেখ রয়েছে। তালিকায় ৬০ জন জেলের নাম, বাবার নাম, গ্রাম, ইউনিয়ন, মোবাইল নম্বরসহ স্বাক্ষর/টিপ সই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রদানকৃত তালিকায় থাকা ৯ নম্বর সদস্য মল্লিকপুর ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের বাসার মল্লিক জানান, "আমি কোনো গরু পাই নাই।" তালিকার ১০ নম্বর সদস্য ধলাইতলা গ্রামের সুজন শেখও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, "আমি গরু পাই নাই।" তালিকার ১১ নম্বর সদস্য খোকন শরীফ জানান, "আমি গরু সম্পর্কে কিছুই জানি না।"
১২ নম্বর সদস্য জুয়েল মোল্যা বলেন, "আমি সরকারি কর্মকর্তা, পরমাণু কমিশনে চাকরি করি।" তবে তালিকায় তার নামের পাশে টিপ সই দেয়া হয়েছে। আরও গুরুতর তথ্য পাওয়া যায় যে, তালিকার ১৭ নম্বর সদস্য রুপাইয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, তবে তার চাচাতো ভাই লিমন সিকদার জানান, "আমি কোনো গরু পাই নাই।"
মনিরুল ইসলাম, ২৭ নম্বর সদস্য, জানান, "আমি ছোট একটা বকনা গরু পেয়েছি, যার মূল্য আনুমানিক ১০/১৫ হাজার টাকা।" তবে তিনি দাবি করেন, গরুর জন্য ফেরদৌস নামে একজন তার কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা নিয়েছেন। ৩৭ নম্বর সদস্য গনি মোল্যার নামের পাশে থাকা মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের শিল্পী জানান, "আমি কোনো গরু পাই নাই।"
মৎস্য কর্মকর্তা মাসুম খান ৬০ জন উপকারভোগীর নামের তালিকা প্রদান করেছেন, তবে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ এবং প্রতিটি গরুর মূল্য নির্ধারণের তথ্য তিনি দেননি। বিষয়টি নিয়ে লোহাগড়া উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দাবি করেছেন, ঘটনার মূল হোতা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুম খান, এবং তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এদিকে, প্রকল্পের বিষয়ে স্বাক্ষরিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. শ্যামল চন্দ্র রায় জানান, "বিষয়টি সম্পূর্ণ মৎস্য কর্মকর্তার ব্যাপার।" তিনি বলেন, "আমরা যাচাই করি নাই।" লোহাগড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাসুম খান সাংবাদিকদের বলেন, "আমি যাদের গরু দিয়েছি, তাদের বাড়ি গিয়ে দেখছি।"
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, "বিষয়টি অবগত হয়েছি, এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।" লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, "কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।" নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনে তিনি জানান, "ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।