
নিজস্ব প্রতিবেদক, কথা২৪ | ঢাকা
রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সামছুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ-এর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, শিক্ষকের শারীরিক প্রহারের কারণ ছিল ওই শিক্ষার্থীর দীর্ঘ চুল, যা তার বাবার দাবি অনুযায়ী, যথেষ্ট ছোট ছিল এবং হাত দিয়ে ধরার মতো অবস্থায় ছিল না।
অভিযোগকারী অভিভাবক, যিনি সামাজিক মাধ্যমে 'MotoCop' নামে পরিচিত, একটি পোস্টের মাধ্যমে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ক্লাসের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সন্তানের চুল আরও ছোট করার নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশের পর শিশুটিকে বেত্রাঘাত করা হয়, যদিও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন যে চুল যথেষ্ট ছোট।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"গত ২ বছর ধরে লক্ষ্য করছি, নামধারী ভালো স্কুলগুলো পড়াশোনার মানোন্নয়নের চেয়ে অন্যান্য বাহ্যিক বিষয়ে বা 'আদিখ্যেতা' নিয়ে বেশি ব্যস্ত। এই বাণিজ্যিক চিন্তাধারার কারণে শিক্ষার মূল পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।"
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, স্কুলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক অভিভাবক এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পান। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও আন্তরিক ও সংবেদনশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। যদিও চুল কাটা বা ড্রেস কোড নিয়ে কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে, তথাপি বেত্রাঘাতের মতো ঘটনা সামাজিকভাবে অমানবিক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য অভিভাবকরা দাবি তুলছেন, নিয়ম রক্ষার নামে কোমলমতি শিশুদের উপর কোনো প্রকার শারীরিক নির্যাতন করা উচিত নয়।
কথা২৪ - সত্যের সন্ধানে সার্বক্ষণিক।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।