
ওমর ফারুক রিপোর্টার । কথা২৪ মিরপুর ঢাকা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি ছিল অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থীর রক্ত, ত্যাগ এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক-মানসিক ক্ষতের এক জীবন্ত দলিল। যে ক্ষত আজও বহু শিক্ষার্থী নীরবে বয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, এই মহান ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতিকে ঘিরে বর্তমানে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার নোংরা খেলা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে কিছু ব্যক্তিকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে জাতীয় সংসদের ভিআইপি গ্যালারিতে বসানোর ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে—প্রকৃত ভুক্তভোগীদের যথাযথ চিকিৎসা, স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন কি নিশ্চিত হয়েছে? প্রকৃত আহতদের অবহেলায় রেখে এমন প্রতীকী ও বিতর্কিত পদক্ষেপ কি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রহসন নয়? এমন কর্মকাণ্ডে যেমন ইতিহাসের সত্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি প্রকৃত বিপ্লবীদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শিক্ষাঙ্গনে যে সুস্থ ধারার রাজনীতি ও শিক্ষার পরিবেশ আশা করা হয়েছিল, বাস্তবতা তার উল্টো। বিশেষ করে মিরপুর কলেজের পরিস্থিতি এখন চরম উদ্বেগজনক। ছাত্র সংগঠনের নামধারী একদল প্রভাবশালী গোষ্ঠী—যারা ক্যাম্পাসে ‘আদু ভাই’ (দীর্ঘদিনের ছাত্র বা অছাত্র) হিসেবে পরিচিত—পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে জিম্মি করে ফেলেছে।
তাদের অনিয়মের ফিরিস্তি দীর্ঘ:
সবচেয়ে ভীতিপ্রদ বিষয় হলো, কলেজ প্রশাসন আজ এই চক্রের কাছে সম্পূর্ণ জিম্মি। তাদের বাধ্য করা হচ্ছে অর্থনৈতিক অনিয়মে অংশ নিতে। এদের নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ তো নেই-ই, বরং অভিযোগ রয়েছে যে, কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালীরা এদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এই ‘ভাগ-বাটোয়ারার’ রাজনীতিতে যখন সবাই সুবিধাভোগী, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীর আর্তনাদ শোনার মতো কেউ নেই।
প্রশ্ন হলো—আদু ভাইদের এই অত্যাচারের হাত থেকে মিরপুর কলেজের মুক্তি কবে? কেন্দ্রীয় কমিটি যখন উচ্ছৃঙ্খল ও বেপরোয়া সন্ত্রাসীদের লালনপালন করে, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীর ভরসাস্থল কোথায়?
এই পরিস্থিতি কেবল মিরপুর কলেজের একার নয়; এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত। শিক্ষা যেখানে হওয়ার কথা ছিল মুক্তচিন্তা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চারণভূমি, সেখানে আজ ভয়, দুর্নীতি ও দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার হতে বাধ্য। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা কি তবে এই ‘আদু ভাই’দের পকেট ভারী করার জন্যই ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর আজ জাতি খুঁজছে।
লেখক:
শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রসাশনিক জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।