
দীর্ঘকাল ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, রাশিয়া এবং চীন কেবল কৌশলগত অংশীদার। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক এই দুই পরাশক্তির সম্পর্ক, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গভীর এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
একসময় মনে করা হতো রাশিয়া এবং চীনের স্বার্থ অনেক ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তাইওয়ান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের দূরত্ব বেড়েছে। এই কারণে মস্কো এবং বেইজিং একে অপরের আরও কাছে এসেছে। বর্তমানে তারা কেবল ব্যবসায়িক অংশীদারই নয়, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ঐতিহ্যগতভাবে আমেরিকার একক আধিপত্য থাকলেও, এখন পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
রাশিয়া ও চীনের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমি দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নতুন একটি ‘গ্লোবাল সাউথ’ গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষা বা উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য এখন আর কেবল ওয়াশিংটনের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় নেই। রাশিয়া এবং চীনের এই যুগলবন্দী আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।