
ইরান নিশ্চিত করেছে, তাদের কাছে মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না। শুক্রবার এ বিষয়ে স্পষ্ট জানায় তেহরান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এএফপি’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর হবে না।’
তিনি আরও জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি কখনো আলোচনায় আসেনি।’
শুক্রবার ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন, ‘আমাদের শক্তিশালী বি-২ বোমারু বিমান দ্বারা সৃষ্ট সকল ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।’ তিনি মূলত গত বছরের মার্কিন হামলায় চাপা পড়া ইউরেনিয়ামের কথাই উল্লেখ করেন।
তবে বাঘায়ি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সংঘাতের অবসান খুঁজে বের করা, ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধার নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী আলোচনা পারমাণবিক বিষয়বস্তুর ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। এখন আলোচনা যুদ্ধের অবসানের দিকে নিয়ে যেতে চাওয়া হচ্ছে। ফলে আলোচনার পরিধি অনেক বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ১০ দফা পরিকল্পনা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাপানো যুদ্ধের ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ট্রাম্প যে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। অন্য পক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব কীভাবে দিতে হবে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তা জানে।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যেটিকে তারা নৌ অবরোধ বলছে, তা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইরান এর যথাযথ জবাব দেবে।’
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। সেই পরিকল্পনায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের জব্দ করা ২০০ কোটি ডলার ফিরিয়ে দেবে।
বর্তমানে তেহরানে বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ মাত্রার কাছাকাছি। এছাড়া ২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের কাছে উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত।
২০২৫ সালের জুনে মার্কিন হামলার পূর্বে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্যমতে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম ছিল; যা ২০১৫ সালের চুক্তিতে নির্ধারিত ৩.৬৭ শতাংশ সীমার তুলনায় অনেক বেশি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র পরে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।
তবে ২০২৫ সালের জুনের পর এই ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। কারণ মার্কিন ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর পরিদর্শনে আইএইএ’র সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না তেহরান।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।