
বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি, নজরুল ইসলাম খান
বাকেরগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানার গৃহীত একটি মামলা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের বাকেরগঞ্জে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানার কর্মকাণ্ডের ফলে নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিতর্কিত মামলা দায়ের করা হয়েছে চরমোনাই পিরের রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী ওই ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা চালান। হামলার ঘটনাটি জানার পর মামলা নিতে চার দিন বিলম্ব হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করেন তিনি। ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়েখে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের নেতা হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, ৯ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকারি সহায়তার চাল বিতরণকালে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদারের নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন হামলা চালায়। তারা তালিকার বাইরে কাউকে চাল না দেওয়ার জন্য হট্টগোল শুরু করে এবং শেষে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলে মামলা করতে গেলে ওসি সোহেল রানা লিখিত আবেদন রেকর্ড করতে বিলম্ব করেন। পরবর্তীতে বরিশালের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে মামলা রেকর্ড হয়। তথাপি, আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং হামলাকারীরা থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগকারী জানান, পুলিশ সুপার পর্যন্ত গিয়ে মামলাটি রেকর্ড করাতে হয়েছে, অথচ একই সময়ে একটি মিথ্যা মামলা ওসি তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড করেছেন, যা তার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহম্মেদ মন্তব্য করেন, সরকারি বরাদ্দের চাল কম আনা হয়েছে বলে চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা ছিল, যেখানে জনগণকে উসকানির মাধ্যমে হামলা চালানো হয়। জীবন বাঁচাতে চেয়ারম্যান হুমায়ুন পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে হামলা চালানো হয়। আরেক বাসিন্দা বাদশা মিয়া জানান, হামলার পূর্বে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে পরিকল্পনা ছিল বলেই মনে হয়েছে।
মামলার বাদী বিএনপি নেতা সোহেল সিকদার জানান, বিষয়টি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল। তিনি বলেন, রবিবার আদালতে হাজির হয়ে দুই পক্ষই একে অপরের মামলায় জামিন নিয়েছে এবং বিষয়টি এখন সমঝোতার পর্যায়ে রয়েছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের মামলার রেকর্ডিংয়ে চারদিন সময় কেন লেগেছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, সংশোধনী নিয়ে তিনদিন পরে আসার কারণে দেরি হয়েছে। তবে, তিনি এ বিষয়ে সঠিকভাবে সদুত্তর দিতে পারেননি। যেখানে হুমায়ুনের মামলা নিতে চারদিন সময় লেগেছে, সেখানে বিএনপি নেতার মামলা দ্রুত রেকর্ড হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার খবর পেয়েই তিনি মামলাটি রেকর্ড করেছেন। চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির এই প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ সুপারকে দিয়ে মামলা রেকর্ড করাতে হয়েছে, যেহেতু তার দল থানায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম সরকারের কাছে আইন শাসনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাকেরগঞ্জের এই ঘটনা থেকে আইন শাসনের সূচনা দেখতে চান, অন্যথায় তাদের দল কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।