
Katha24 ডেস্ক | আন্তর্জাতিক:
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে, ইরান অপারেশন ‘ট্রু প্রমিস ৪’ এর ৩৭তম ধাপে সবচেয়ে শক্তিশালী হামলার দাবি করেছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, এই ধাপে ইসরায়েলের সামরিক উদ্দেশ্য এবং মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ভারী ওয়ারহেডসহ ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বশেষ হামলায় শক্তিশালী ‘খোররামশাহর-৪’ ক্ষেপণাস্ত্রের মাল্টি-লঞ্চ স্ট্রাইক ব্যবহৃত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত হায়েলা স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারকে যুদ্ধ শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি বিয়ার ইয়াকভ, আল-কুদস এবং হাইফা অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
শুধু ইসরায়েল নয়, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের ইরবিল শহরে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এবং বাহরাইনের মানামা শহরে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ওপরও আঘাত হানা হয়েছে বলে আইআরজিসি জানিয়েছে।
আইআরজিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “পূর্ণ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত হামলার তীব্রতা ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হবে।”
এদিকে হামলার আঞ্চলিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের কিছু অংশ ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা আর মেরামত করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোও তেল আবিবের কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাতের খবর নিশ্চিত করেছে। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় স্যাটেলাইট ইমেজিং কোম্পানি প্ল্যানেট ল্যাবস সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির ছবি ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আল মায়াদিন
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।