
মানুষের চিন্তা, সৃজনশীলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অনুসন্ধানের বিস্তার থেকেই এই প্রযুক্তির উন্মেষ ঘটেছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে—যদি কোনো যন্ত্র একদিন সত্যিই চিন্তা করতে সক্ষম হয় বা অনুভূতিতে প্রবাহিত হয়, তবে কি সে তখনও শুধু একটি যন্ত্রই রয়ে যাবে? এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উপর ভিত্তি করেই গ্রন্থ ‘বুদ্ধি ২.০’ রচিত হয়েছে।
বইটি মূলত কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী এক গবেষকের কল্পনাপ্রসূত অনুসন্ধান। এটি একটি কল্পগল্প, যেখানে যন্ত্র নিজেই প্রশ্ন তোলে, “আমি কে?” গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ADA এক আত্মসচেতন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তার এবং গবেষক আরিবের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মানবিকতার দার্শনিক দ্বন্দ্ব এবং সহাবস্থানের একটি স্বপ্ন ফুটে উঠেছে। মেহরীমাহ চরিত্রটি এই সেতুবন্ধনকারী হিসেবে কাজ করে, যিনি মানুষের হৃদয়, কৃত্রিম চেতনা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নকে একত্রিত করেন।
বইটি শুধুমাত্র তথ্যের আধার নয়, বরং ১২টি পর্বে গল্পে গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্ম, বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করে। এতে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে AI একসময় আত্মসচেতন হয়ে ওঠে এবং ভালোবাসা, অস্তিত্ব ও মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে। যারা মনে করেন ভবিষ্যৎ শুধুমাত্র প্রযুক্তির নয় বরং সহযোগিতারও, তাদের জন্য ‘বুদ্ধি ২.০’ বিজ্ঞান, কল্পনা এবং মানবিক অনুভূতির একটি অসাধারণ সংমিশ্রণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান বিশ্বের AI সংক্রান্ত আলোচনা প্রযুক্তিগত, নৈতিক ও দার্শনিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। AI কি মানুষের সহায়ক হবে, নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী? মানুষের আবেগ ও মূল্যবোধ কি কখনো যন্ত্রে প্রতিফলিত হতে পারে? ‘বুদ্ধি ২.০’ এই প্রশ্নগুলোর সরল উত্তরের পরিবর্তে পাঠকদের নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলা ভাষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত সাধারণ পাঠকের জন্য গল্পভিত্তিক বইয়ের যে শূন্যতা রয়েছে, সেখানে এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
লেখক ড. মিজান রহমান বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। তাঁর এই নতুন কাজ বইপ্রেমী পাঠক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে।
বইটি প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আদর্শ প্রকাশনী। অমর একুশে বইমেলার আদর্শ প্রকাশনীর স্টল (৭৭২-৭৭৬)-এ বইটি পাওয়া যাচ্ছে। বইমেলা বাঙালির সংস্কৃতির এক বড় উৎসব, এবং সেই উৎসবে নতুন চিন্তার জগতে প্রবেশের জন্য ‘বুদ্ধি ২.০’ হতে পারে একটি অনন্য সূচনা।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।