
অর্থনীতি ডেস্ক, ১ মার্চ ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো বড় তেল বা গ্যাস স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে বিস্ফোরণ এবং কাতারের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব: বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবাহিত হয় ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, অনেক বড় তেল কোম্পানি ও ট্রেডিং হাউস ইতিমধ্যেই এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে।
তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ: গত কয়েক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলারে উঠেছিল, যা আগস্ট ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ। তবে সোমবার বাজার খুললে এটি আরও বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনগামী বড় তেলের ট্যাঙ্কারের ভাড়া (Freight rate) ইতিমধ্যে তিনগুণ বেড়েছে।
বিকল্প ব্যবস্থা ও ওপেক (OPEC): সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌদি আরব তাদের রপ্তানি বাড়িয়ে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ব্যারেলে উন্নীত করেছে। আজ রবিবার ওপেকের সদস্য দেশ ও রাশিয়ার (OPEC+) একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে এই উৎপাদন বৃদ্ধিও বাজার সামলাতে যথেষ্ট হবে না।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।