
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে পরিচালিত অভিযানে ২৭টি সামরিক চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অভিযানে ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পাল্টা দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা পাকিস্তানের ১৯টি সামরিক চৌকি এবং দুটি ঘাঁটি দখল করেছে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ঘটনায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে উভয় পক্ষের তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তান সীমান্তে তাদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা বলেন, ওই হামলায় কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায়, পাকিস্তান ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনী (পিএএফ) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানী কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩৩ জন আফগান সেনা নিহত এবং প্রায় দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আফগান বাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদের ডিপো ধ্বংস করার দাবি করা হয়েছে।
তবে চলমান সংঘাতের মধ্যে, দুই দেশের পক্ষ থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হলেও নিরপেক্ষভাবে সেগুলো যাচাই করা কঠিন। পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।