
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন চরম উত্তাপের দিকে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই এই বৈঠক হতে যাচ্ছে।
আজ সোমবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন নেতানিয়াহু। গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ সম্পন্ন করতে ওয়াশিংটন যখনচাপ জোরালো করছে, তখনই এই আলোচনা হতে যাচ্ছে।
প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের ২০-দফার তথাকথিত ‘শান্তি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীর, লেবানন এবং সিরিয়ায় হামলা আরও জোরদার করছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফর কেমন হতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে আল-জাজিরা।
নেতানিয়াহু বৈঠকে ট্রাম্পের সঙ্গে কী বিষয়ে আলোচনা করবেন? যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অবস্থাই কী—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে আল–জাজিরা।
এই সফর নেতানিয়াহুর গত ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চম সফর। অন্য যেকোনো বিশ্বনেতার চেয়ে নেতানিয়াহুকে সবচেয়ে বেশি বার যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানিয়েছেন ট্রাম্প।ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারি মাসে নেতানিয়াহু প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে হোয়াইট হাউস সফর করেছিলেন। এরপর তিনি এপ্রিল এবং জুলাই মাসেও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সবশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের পর ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাক্ষাৎ করেন।ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠকটি হোয়াইট হাউসে হবে না। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে নেতানিয়াহু ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে যাবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অবকাশ যাপন করছেন।
আজ সোমবার দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা আছে।
প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প আরও বেশি করে ইসরায়েলের রক্ষণশীল সরকারের পক্ষে মার্কিন নীতিকে এগিয়ে নেন। তিনি জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করেন,সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমিতে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেন এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) অর্থায়ন বন্ধ করে দেন।
চলতি বছর হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত প্রকাশ করার প্রবণতা দেখিয়েছেন। তবু তাঁর প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে। যেমন মার্চে গাজা উপত্যকায় সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলআবারও হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে যুক্তরাষ্ট্র তাতে সমর্থন জানিয়েছিল।
গত জুনে ট্রাম্প ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলায় যুক্ত হন, যা তার কিছু সমর্থককে হতাশ করেছিল।আবার একই সঙ্গে ট্রাম্প গাজায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলকে চাপ দিচ্ছেন। গত সেপ্টেম্বরে দোহায় ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের সংশয়ের পরও তিনি দ্রুত সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের পর পরই নেতানিয়াহু তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। আর তাতে ট্রাম্প বিরক্ত হন। কারণ, তিনি তখন মিথ্যাদাবি তুলেছিলেন, নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে।
২০২১ সালে সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি তখন থেকে তাঁর (নেতানিয়াহু) সঙ্গে কথা বলিনি।’
২০২৪ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর দুই নেতার মধ্যে আবারও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনি অধিকার কর্মীদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন।
নিজ দেশে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দিতে গত নভেম্বরেট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগকে অনুরোধ জানান।
তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে যে পুরোপুরিভাবে মতের মিল রয়েছে, তা নয়। গাজা ও সিরিয়া পরিস্থিতি এবং তুরস্ক ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের মতো বিষয়গুলোতে তাদের অবস্থানে ফাটল রয়েছে।
এবার যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নেতানিয়াহু সম্ভবত ট্রাম্পের প্রশংসা করবেন এবং তাঁর সঙ্গে উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে বলে দেখাতে চাইবেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তাঁরএজেন্ডাকে এগিয়ে নেবেন এবং ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখাতে চাইবেন যে, তাঁর ওপর এখনো ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।