
নিউজ রিপোর্ট | Katha24.com
বাংলাদেশে কি সুবিচার পাওয়া এখন শুধুই ভাগ্যের ব্যাপার?
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক এমডি দম্পতির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে আলোচিত মোহনা মামলা ঘিরে এমনই প্রশ্ন উঠছে সর্বমহলে।
ভুক্তভোগী মোহনার পক্ষে অভিযোগ উঠেছে—নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত, ভিডিও ফুটেজ এবং আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি থাকার পরও মামলার বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি পাচ্ছে না। বরং “জামিন” নামক এক অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
একাধিক সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তরা অর্থ ও প্রভাবের জোরে জামিনে বেরিয়ে আসছে। কালো কোর্ট পরিহিত কিছু অসাধু আইনজীবীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে আসামি জামিনে বের করে আনার অভিযোগও উঠেছে। এতে করে বিচার নয়, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একবার অভিযুক্ত জামিনে বেরিয়ে এলে মামলার গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকায় এক সময় বাদী পক্ষ মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে অভিযুক্ত পক্ষ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনেও এই ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়া ও সহজ জামিন ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন অনেকে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ইভটিজিং—সব অপরাধই যেন বেড়েই চলেছে, আর সাধারণ মানুষ প্রশ্ন করছে:
“এই দেশ কি অপরাধীদের জন্যই নিরাপদ?”
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও যদি ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার না পান, তাহলে ‘সোনার বাংলা’ কি কেবলই স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে?
মোহনার বিচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে বলছেন, এই মামলা শুধু একজন নারীর নয়—এটি দেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতার পরীক্ষা।
এখন দেখার বিষয়, রাষ্ট্র কি আদৌ প্রমাণ করবে যে এই বাংলায় ক্ষমতাবানদের ঊর্ধ্বে আইন আছে?
নাকি “জামিন নামক ভাইরাসে” আক্রান্ত বিচারব্যবস্থা আরও একবার নীরব দর্শক হয়েই থাকবে
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।