
নিজস্ব প্রতিবেদক | Katha24.com
কোট-টাই, উচ্চশিক্ষা আর ক্ষমতার চেয়ারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ংকর এক মানবতাবিরোধী চিত্র সামনে এসেছে। রাজধানীর উত্তরায় ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোঃ সফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটির শরীরে নির্যাতনের এমন চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেখে সংশ্লিষ্টদের গা শিউরে ওঠে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই শিশুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত মোঃ সফিকুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিমানে যোগ দেন। প্রশাসন বিভাগে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিমানের শীর্ষ পদ—ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন উচ্চপদস্থ সাবেক সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, নিয়োগ ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে—প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা বড় পদ মানুষকে মানবিক করে তোলে না। ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার বাইরে চলে যায়, তখনই এ ধরনের বর্বরতা জন্ম নেয়।”
সুশীল সমাজের প্রশ্ন—
একজন শিশুনির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার ব্যক্তি কীভাবে এতদিন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করলেন? নিয়োগের সময় তার ব্যক্তিগত আচরণ, মানসিকতা ও নৈতিক মানদণ্ড যাচাই করা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মামলায় যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হয়, তবে তা হবে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের অবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত।
দেশের আইন অনুযায়ী শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর অপরাধ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে—এই ঘটনায় কোনো প্রভাবশালী পরিচয়, কোনো পদবি, কোনো ‘সাবেক’ শব্দ যেন রক্ষা-কবচ হয়ে না দাঁড়ায়।
রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছে একটাই প্রশ্ন—
কোট-টাই পরা অপরাধীরা কি তবে আইনের ঊর্ধ্বে?
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।