
কন্যাকে হারানোর পর সমাজসেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন রত্না দেবনাথ। নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে নেওয়ার পর তিনি এখন সরাসরি তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর মূল নির্বাচনী ইস্যু—কন্যার হত্যার নেপথ্যে থাকা ‘আসল’ দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। রত্না দেবনাথের দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার ঘটনার অনেক তথ্য ধামাচাপা দিয়েছে এবং তিনি নির্বাচিত হলে এই মামলা নতুন করে চালুর ব্যবস্থা করবেন।
গত শুক্রবার পানিহাটির অমরাবতীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রত্না দেবনাথের হয়ে সওয়াল করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি সরকার গড়লে অত্যাচারের ফাইল নতুন করে খোলা হবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।” প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য পানিহাটির নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

পানিহাটি কেন্দ্রে এবারের লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত ও আবেগীয়। এই কেন্দ্রের তিন প্রধান প্রার্থীর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ‘অভয়া’ আন্দোলনের স্মৃতি:
রত্না দেবনাথ (বিজেপি): নিহত চিকিৎসকের মা, যিনি ন্যায়বিচারের আশায় লড়াই করছেন।
কলতান দাশগুপ্ত (সিপিএম): আর জি কর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ। এককালে রত্না দেবনাথের আন্দোলনের সঙ্গী হলেও আজ তিনি ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী।
তীর্থঙ্কর ঘোষ (তৃণমূল): বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে। নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ‘অভয়া’র মরদেহ তড়িঘড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল এবং সিবিআই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছিল।
পানিহাটির মধুসূদন ব্যানার্জি রোডে রত্না দেবনাথের বাড়িতে এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি প্রহরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই নিরাপত্তা বজায় থাকলেও ভোটের কারণে বর্তমানে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে।
যিনি একসময় নিভৃতে বিচার চেয়েছেন, সেই মা এখন হাজার হাজার মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে ভোট চাইছেন। পানিহাটির ভোটাররা এখন কার ওপর আস্থা রাখবেন—মেয়ের বিচার চাওয়া মায়ের ওপর, আন্দোলনের নেতা কলতানের ওপর, নাকি তৃণমূলের তীর্থঙ্করের ওপর—তা জানা যাবে আগামী ৪ মে।
তথ্যসূত্র: বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।