
শিল্প, পাট ও বস্ত্র এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হলেও সরকার জনগণের ওপর এর প্রভাব কমাতে সচেষ্ট রয়েছে। এ জন্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের দাম মাত্র ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ আশেপাশের অন্যান্য দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ১৫ শতাংশের এই বৃদ্ধি করেছি যাতে জনগণের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
তিনি আরো জানান, ১৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধির ফলে একটি ট্রাক যদি ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করে, তবে কেজি প্রতি পণ্যের মূল্য মাত্র ৩০ পয়সা বাড়তে পারে। এই সামান্য বৃদ্ধির কারণে প্রকৃত মূল্যস্ফীতির ওপর কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
মন্ত্রী সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজারে বাসিয়া খাল পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আগামী ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিলেটের এই স্থানে বাসিয়া খাল খননের উদ্বোধন করবেন।
এ উপলক্ষে, সদর উপজেলার মাসুকবাজারে খালটির প্রস্তুতি পরিদর্শনে যান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বাসিয়া খাল খনন সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, এই খালের মোট দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার, যেখানে খনন করা হবে ২৩ কিলোমিটার। এটি সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ বাজার থেকে শুরু হয়ে ওসমানীনগর উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এর ফলে ৯০ হাজার কৃষক উপকৃত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।
সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস, তবে আমরা বহু অব্যবস্থাপনা ও অরাজকতা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান সমস্যা হলো, এটি এখনও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। দেশে মাত্র ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয় এবং ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করতে হয়। অর্থের সংস্থান থাকলেও কিছু সমস্যা কারণে চাহিদামাফিক গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। তবে সরকার এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
খাল পরিদর্শনকালে, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, এবং সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।