
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ১ মে, বেলা আড়াইটায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, রাজধানীর নয়াপল্টনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করবেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও, দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এতে অংশগ্রহণ করবেন।
নজরুল ইসলাম খান জানান, এটি একটি বৃহৎ কর্মসূচি এবং একটি বিশাল শ্রমিক সমাবেশে পরিণত করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল থেকে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে এবং পহেলা মে পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের সমাবেশ একটি ঐতিহাসিক রূপ নিতে চলেছে।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে মহান মে দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরেন, দাবি করে বলেন, এটি শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক।
শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া ছাড়া তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ১৮৮৫ সালে শ্রমিকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, পরবর্তী বছরের মে মাসে তারা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলবে, এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৬ সালের আন্দোলন বিশ্ব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নেয়।
তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকরা তখন শুধুমাত্র আন্দোলন করেননি, বরং সামাজিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, যেসব কারখানা আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা মেনে চলছিল, শ্রমিকরা তাদের পণ্য ব্যবহার করতেন।
এটি সংগঠিত শ্রমিক আন্দোলনের শক্তি, সংহতি, ত্যাগ এবং ঐক্যের প্রতীক।
নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদেরও শ্রমজীবী মানুষের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং অনলাইন মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, তারাও শ্রমিক, এবং তাদের সংগঠনও শ্রম আইনের অধীনে নিবন্ধিত।
তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান, শ্রমজীবী মানুষের এই গৌরবময় দিনটিকে সফল করতে সহযোগিতা করুন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের সমাবেশ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের উদ্যোগে সংগ্রহ করছেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা নিজেদের চাঁদা দিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি এবং কারো কাছে অর্থের জন্য যেতে হচ্ছে না। এটি আমাদের স্বনির্ভরতার একটি উদাহরণ।
তিনি উল্লেখ করেন, এটি শ্রমিকদের নিজেদের শক্তিতে দাঁড়ানোর একটি প্রচেষ্টা এবং ভবিষ্যতে দেশের পরিবর্তনে শ্রমিক শ্রেণীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিকদের সব দাবি একসাথে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার দেওয়া হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের জন্য অনেক ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
নজরুল ইসলাম খান জানান, গত বছরের মে দিবসে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলোই এবারের প্রধান দাবি হিসেবে থাকবে। নতুন কোনো দাবি নয়, বরং পূর্বের অপূর্ণ দাবিগুলোর বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং মহাসচিব নুরুল ইসলাম খান নাসিমসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।