
কয়েক সপ্তাহের চরম ভোগান্তির পর অবশেষে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছোট হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর রাজারবাগ, আরামবাগ ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আগের তুলনায় গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমে এসেছে।
রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গত সপ্তাহে যেখানে ২২৩টি মোটরসাইকেল ও ১৬৬টি প্রাইভেট কারের দীর্ঘ জট ছিল, আজ সেখানে তা কমে যথাক্রমে ১০২ ও ৯২টিতে দাঁড়িয়েছে। একই চিত্র দেখা গেছে আরামবাগের মেসার্স এইচকে ফিলিং স্টেশন ও মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স স্টেশনেও। চালকরা জানাচ্ছেন, আগে যেখানে ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
মোটরসাইকেল চালক কামরুল হাসান বলেন,
"আজ মাত্র দুই ঘণ্টায় তেল পেয়েছি, যা গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক কম সময়। তবে সরবরাহ আরেকটু বাড়ালে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হতো।"
গত ২০ এপ্রিল জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ডিজেল ও পেট্রোলের সরবরাহ ১০ শতাংশ এবং অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের প্রভাবেই পাম্পগুলোতে তেলের প্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে কিছু পাম্প কর্তৃপক্ষ এখনও পুরোপুরি বর্ধিত সরবরাহ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে। রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার দ্বীন ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ২০ শতাংশ অকটেন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনও তা হাতে পাননি। অন্যদিকে, আরামবাগের এইচকে ফিলিং স্টেশনের হিসাবরক্ষক রবিউল হাসান জানান, সাপ্তাহিক ছুটির আগে আজ তারা ১৮ হাজার লিটার তেল পেয়েছেন, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করছে।
লাইন ছোট হলেও কিছু পাম্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন চালকরা। হেলাল উদ্দিন নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, লাইনের বাইরে থেকেও কিছু মানুষ পাম্প কর্মীদের সহায়তায় তেল নিয়ে যাচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের অপেক্ষার সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহের এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকলে এবং তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে দ্রুতই জ্বালানি সংকট থেকে মুক্তি মিলবে।
কথা২৪.কম/২০২৬
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।