
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬
হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টিতে ঝাপসা ভাব অথবা আকস্মিক খিঁচুনি—এসব লক্ষণ সাধারণত স্ট্রোক বা স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির সংকেত হিসেবে ধরা হয়। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি বিশেষ অবস্থা রয়েছে, যা প্রথমে মারাত্মক মনে হলেও, সঠিক সময়ে শনাক্ত হলে সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য। এই অবস্থাকে ‘পোস্টেরিয়র রিভার্সিবল এনকেফালোপ্যাথি সিনড্রোম’ বা সংক্ষেপে ‘প্রেস’ (PRES) হিসেবে পরিচিত।
এই সিনড্রোমের নামেই এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়েছে। ‘পোস্টেরিয়র’ মানে মস্তিষ্কের পেছনের অংশ, ‘রিভার্সিবল’ নির্দেশ করে যে এটি পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম এবং ‘এনকেফালোপ্যাথি’ বোঝায় মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতা।
এটি মূলত মস্তিষ্কের রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে ঘটে। যখন রক্তচাপ আচমকা বৃদ্ধি পায়, তখন মস্তিষ্কের পেছনের অংশের রক্তনালিগুলো সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে কিছু তরল নিঃসরণ করে। এর ফলে মস্তিষ্কে পানির জমাট বাঁধা (এডেমা) ঘটে এবং সাময়িকভাবে বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
যেকোনো বয়সের মানুষের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়:
উচ্চ রক্তচাপ: হঠাৎ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে বা দ্রুত বেড়ে গেলে।
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে একলাম্পসিয়া বা প্রসব-পরবর্তী উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় এটি বেশি ঘটতে দেখা যায়।
কিডনি জটিলতা: যাঁদের কিডনি বিকল হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের রক্তচাপ ও তরল নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে।
বিশেষ ওষুধ: ক্যানসারের কেমোথেরাপি বা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর ব্যবহৃত ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি দেখা দিতে পারে।
অসহ্য ও তীব্র মাথাব্যথা।
দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা বা সাময়িকভাবে অন্ধত্ব।
হঠাৎ খিঁচুনি ওঠা।
মানসিকভাবে অসংলগ্ন আচরণ বা স্মৃতিভ্রম।
য aunque presses syndrome সাময়িক এবং নিরাময়যোগ্য হলেও অবহেলা করলে এটি স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি বা স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ সেবন এই জটিলতা থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।