
সরকারের সিদ্ধান্ত: সারা দেশের সরকারি দপ্তরসমূহে শূন্যপদ পূরণ করতে পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান সংসদে এ তথ্য প্রকাশ করেন। বুধবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এই বিষয়ক লিখিত প্রশ্ন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি: প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে এবং তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে ২,৮৭৯ জন নিয়োগের কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষা খাতে উন্নয়ন: শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২,৩৩৬টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৮,২৩২টি মাদ্রাসায় ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ সেবা চালু করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সহজেই অনলাইন শিক্ষা উপকরণের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা আয়তনের উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। শহর ও গ্রামে খেলার মাঠ নির্ধারণে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি বর্তমানে কাজ করছে।
ভিসা সংক্রান্ত ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রী জানান, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় জামানতবিহীন ঋণের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এখন থেকে ভিসা পাওয়ার আগে যোগ্যতার প্রমাণপত্রের ভিত্তিতে এই ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে।
জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল: সরকার একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরক্ষা খাতে উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রী জানান, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতির প্রণয়ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীকে কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীকে সমুদ্রপথ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষার পাশাপাশি বিমানবাহিনীর নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবা উদ্যোগ: সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৃক্ষরোপণ পরিকল্পনা: ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এগুলো রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় সরকার ও এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
কৃষক কার্ড বিতরণ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা বিভিন্ন সুবিধা ও কৃষি উপকরণ সহজে পাবেন।
অন্যান্য উদ্যোগ: কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের সুবিধা প্রদান করা হবে, যার মধ্যে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শ্রমবাজারের সন্ধান: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে পেতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানান, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের সাথে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক সহায়তা আবেদন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২শ’ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন। চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষিতে তিনি এ আহ্বান জানান এবং দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানান।
অতীতের সংকটের শঙ্কা: প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংকট ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। তিনি এই সম্মেলনের আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।
কৃষক কার্ডের উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।