
জাতীয় সংসদে আজ পাস হয়েছে ২৪টি বিল, যার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ উল্লেখযোগ্য। উল্লেখ্য, সকালের অধিবেশনে ১০টি বিল পাস হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জানান, আজ পাস হওয়া ২৪টি বিলসহ চলতি অধিবেশনে মোট ৯১টি বিল পাস হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনের সকালের অধিবেশনে, উত্থাপিত বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় আলোচনার প্রয়োজন দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উপস্থাপন করলে সর্বসম্মতিক্রমে সেগুলো পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে, সংসদের বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনসহ পাসের সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি বাতিল এবং ১৬টি নতুন বিল আকারে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়।
পাস হওয়া বিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’; ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন বিল, ২০২৬’; ‘বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’; অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; ‘এক্সাইজেস এন্ড সল্ট বিল, ২০২৬’; ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; ‘অর্থ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’; শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’; মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যূত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং বিলগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করার পর, ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলের সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি উত্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে দেন। কন্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি পাস হয়।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে, মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমান এই বিলের ওপর তিনটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন। পরে স্পিকার তার সংশোধনীগুলো গ্রহণ করেন এবং বিলটি সংসদে স্থিরকৃত আকারে পাস হয়।
অধিবেশনের শেষ দিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা কন্ঠভোটে পাস হয়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।