
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | কথা২৪
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের বিশেষ অনুমতি নিয়ে অন্তত ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ সফলভাবে পার হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জলপথটির নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করার মধ্যে এই তথ্য প্রকাশিত হলো। একই সঙ্গে, ইরান সরকার এই কৌশলগত পথ ব্যবহারের জন্য ‘নিরাপত্তা টোল’ বা মাশুল আরোপের বিষয়ে গুরুত্বের সাথে চিন্তা-ভাবনা করছে।
মূল ঘটনাপ্রবাহ: ইরানি নৌবাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুসরণ করতে হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পার হওয়া ১৫টি জাহাজই তেহরানের মেরিটাইম অথরিটির নির্দেশনা ও তদারকিতে সাড়া দিয়ে নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছেছে।
টোল বসানোর পরিকল্পনা: দীর্ঘদিন ধরেই ইরান দাবি করে আসছে যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই ব্যয়ের বোঝা কমাতে, তারা এখন থেকে প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী বিদেশি জাহাজগুলোর ওপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘ট্রানজিট টোল’ আরোপ করার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই টোল কার্যকর হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পণ্য পরিবহন খরচ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ:
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা: সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালীতে পশ্চিমা নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই অঞ্চলের জলসীমার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের। টোল ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ইরান মূলত এই জলপথে তাদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণকে আরও জোরদার করতে চায়।
আন্তর্জাতিক শিপিং কাউন্সিল এবং পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কীভাবে গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
কথা২৪ ডটকম - সবার আগে সঠিক সংবাদ।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।