
স্টাফ রিপোর্টার | কথা২৪
লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলাকালীন তারা বারবার অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, সম্প্রতি লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মিলেনি। পরে সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর জানানো হয়, “স্যার ব্যস্ত”—এবং প্রয়োজন হলে এডিসি (জেনারেল)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
তবে সৌজন্য সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং আবারও এডিসি’র কাছে যেতে বলেন। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণে সাংবাদিকরা অপমানিত বোধ করছেন।
এটি প্রথম ঘটনা নয়; এর আগে জেলা প্রশাসককে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ, নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ, এমনকি ভাষা দিবসে মন্ত্রীকে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার মতো ঘটনা আলোচনায় এসেছে।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রশাসন কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়ম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এক সংবাদকর্মীকে ফোনে জেলা প্রশাসকের মন্তব্য ছিল, “নিউজ করেন, তারপর ব্যবস্থা নেব”—যা দায়িত্বশীলতার পরিবর্তে উদাসীনতার প্রকাশ।
গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংবাদিকদের অবহেলা করা শুধু একটি পেশাকে অসম্মান করা নয়; বরং এটি সমাজের ‘চোখ’কে অন্ধ করে দেওয়ার শামিল। সংবাদমাধ্যম রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে সুসম্পর্ক অপরিহার্য। তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করে বা সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে কোনো প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—লালমনিরহাটে কি একটি ‘নীরবতার প্রশাসন’ গড়ে উঠছে? যেখানে সমালোচনা এড়াতে গণমাধ্যমকে দূরে রাখা হচ্ছে?
সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা। কারণ, গণমাধ্যমকে দমিয়ে রেখে নয়—বরং সহযোগিতা করেই একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।