
স্টাফ রিপোর্টার | কথা২৪
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে: দেশের সড়কপথে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে শুরু হয়েছে এক অঘোষিত উৎসব। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে বাস ও মিনিবাসে যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের মতে—“ঈদ মানেই এখন পকেট কাটার মৌসুম!”
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির জরিপ: এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এবারের ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে গত ২০ বছরের সব রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে।
মাঠপর্যায়ের চিত্র:
ঢাকা থেকে পাবনা ও নাটোর রুটে ৫৫০ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১২০০ টাকা। রংপুরে ৫০০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা, এবং ময়মনসিংহে ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকায় পৌঁছেছে! শুধু দূরপাল্লার ক্ষেত্রেই নয়, সিটি সার্ভিসেও একই চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগের পরিসংখ্যান:
৮৭% বাসে সরকারি ভাড়া চার্ট মানা হচ্ছে না।
প্রায় ১ কোটি ট্রিপে যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় হতে পারে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা!
কৌশলে প্রতারণা:
অনেক বাসে ৫২ সিট থাকা সত্ত্বেও, ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৪০ সিটের হিসেবে। আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে যাত্রীদের দূরের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে—এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত একটি খেলা!
যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ:
সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী মন্তব্য করেন,
“সরকারের মনিটরিং দুর্বল, আর মালিকদের লোভ ও চাঁদাবাজির কারণে এই নৈরাজ্য চলছে।”
কারণ কী?
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি,
শ্রমিকদের বোনাস আদায়ের চাপ,
মালিকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ।
সমাধান কী হতে পারে?
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবিগুলি হল—
✔️ ডিজিটাল ভাড়া ব্যবস্থা চালু করা,
✔️ নগদ লেনদেন বন্ধ করা,
✔️ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কঠোর নজরদারি।
বাস্তবতা হলো:
ঈদে মানুষ বাড়ি যাবে—এটি আবেগের বিষয়, ব্যবসার নয়। কিন্তু এই আবেগকে পুঁজি করে যাত্রীদের ওপর চলছে এক প্রকার অর্থনৈতিক ‘ডাকাতি’।
এখন প্রশ্ন একটাই—
এই ভাড়া নৈরাজ্য থামাবে কে? নাকি প্রতি ঈদেই এভাবেই “পকেট কাটা উৎসব” চলবে?
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।