
নিজস্ব প্রতিবেদক | কথা২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার কারণে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী ভয়াবহ এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংঘটিত হয়েছে। এই সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে গোয়ালনগর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষের দ্বারা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই ঘটনাটি কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়ার প্রতি সন্দেহ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ঘটে, যা পরে প্রতিশোধপরায়ণতার জন্ম দেয়।
এই ঘটনার জেরে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে, জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনায় রহিম তালুকদার গোষ্ঠী এবং কাসেম গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মঙ্গলবার সকালে রহিম গোষ্ঠীর সদস্যরা কাসেম গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষ মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে টেঁটা, বল্লম, দা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়, যার ফলে উভয়পক্ষের অসংখ্য মানুষ আহত হন।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংঘর্ষের পর বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।